প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 20, 2026 ইং
নলছিটি এলজিইডি প্রকৌশলী মামুনের বিরুদ্ধে কেলেঙ্কারীর বিবিধ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঝালকাঠি জেলার নলছিটির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা, বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসা করা, ঊর্দ্ধতন উপজেলা প্রকৌশলীর যোগসাজশে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করা সহকারে দায়িত্বে অবহেলা ও নারী কেলেঙ্কারির মতো জঘণ্য কর্মকান্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তার ৩য় স্ত্রী বরিশাল সদর উপজেলার ৯৯নং বগুড়া নথুল্লাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুসরাত শারমিন। এ বিষয়ে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
গত ১ অক্টোবর ২০২৮ ইংতারিখে দেয়া ওই আবেদনে অভিযোগকারী দাবি করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কাজের বিল অনুমোদন, নিম্নমাণের কাজের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মতো গুরুতর কর্মকান্ডে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এছাড়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ও বিবিধ ছলে-কৌশলে অনেক নারীর সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপণ করেন তিনি। ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে নির্যাতন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগও আনা হয়েছে এই উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী আরো দাবি করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে তার কাছে অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ, মে ও জুলাই মাসের কয়েকটি কথোপকথনের রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে সেগুলো তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অবহেলা করেন। এমনকি ব্যক্তিগত কাজে সময় ব্যয় করেন। এছাড়া নিজের স্ত্রী ও দু’টি কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি গোপণ করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্য নারীদের নিয়ে সরকারি বাংলো ও বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁয় অনিয়মিতভাবে যাতায়াত করেন তিনি। এসব অভিযোগের পক্ষে চিকিৎসার নথি, তালাক সংক্রান্ত কাগজপত্র, মামলার আপসনামা, অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করেন ওই অভিযোগকারী।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অতীতেও দাপ্তরিক অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে কার্যকর কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি দিনকে দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। তার লাগাতার লুটপাট অনিয়ম দুর্নীতির ধারা বর্তমানে আরো বেশী করে অব্যাহত আছে। তিনি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগকারী আবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে কোনো নারীর সঙ্গে আর প্রতারণা করতে না পারে। একইসঙ্গে সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন শারমিন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ফ্যাসিষ্ট প্রেতাত্মা এই এলজিইডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী চাকরি জীবনে এভাবে অনিয়ম দুর্নীতি করে ঝালকাঠি শহরে বাড়ি ও বরিশাল সিটিতে দুটি বিলাশবহুল এপার্টমেন্টসহ নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ বিষয়ে দুদকসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার জরুরী হস্তক্ষেপ দাবী করছের ওই ভূক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুনকে ফোন করে কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। (ক্রমশ:)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাঙালি সংবাদ